মালয়েশিয়ায় অপহরণের অভিযোগে প্রায় সাত বছর কারাভোগের পর অবশেষে খালাস পেয়েছেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক। এক বাংলাদেশি শ্রমিককে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে আপিলে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সব সাজা বাতিল করে তাদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৯ জুন) দেশটির আপিল বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করে অবিলম্বে মুক্তির আদেশ দেন।
খালাস পাওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন ফারুক শাহাবুদ্দিন (৪২) ও হোসনেয়ারা বেগম (৪০)।
বিচারপতি আজমি আরিফিনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৬১ সালের কিডন্যাপিং অ্যাক্টের ধারা ৩(১)-এর অধীনে দেওয়া সাজা বাতিলের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, দেশটির আলোর সেতার (Alor Setar) উচ্চ আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ফারুক শাহাবুদ্দিনকে একটি বেত্রাঘাতের (ক্যানিং) দণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর রাতে কেদাহ রাজ্যের কুলিম বাসস্টেশনে সাইফুল ইসলাম সলিহুদ্দিন (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিককে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ ও আটকে রাখার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করলে আসামিপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
ফারুকের আইনজীবী আরএসএন রায় আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মামলার ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য ও জবানবন্দিতে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। সেই প্রমাণ পর্যালোচনা করেই আপিল বিভাগ তাদের দণ্ডাদেশ বাতিল করে খালাসের আদেশ দেন।



