২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে সৃজনশীল কর্মসূচিই পট পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলো। এর মধ্যে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি সম্পৃক্ত করতে থাকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। একই সাথে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ অপশাসনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই ছিলো গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আন্দোলন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেছে অগণতান্ত্রিক সরকার পেশিশক্তি দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের সময় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার পুনর্বহালে ক্ষোভে ফুসতে থাকে গোটা ছাত্র সমাজ। তারই ধারাবাহিকতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো চলে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি।
এ দিন কোটা নিয়ে আপিল বিভাগের আদেশের পর শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন তৎকালীন সরকারে মন্ত্রীরা।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, এদিন বিকাল ৩টায় রাজধানীসহ সারাদেশে সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে যান শিক্ষার্থীরা। এতে বাধা দেয় পুলিশ। বাধা উপেক্ষা করেই আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বাংলা ব্লকেড কর্মসূচী শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ ছিলোনা। এ বিস্ফোরণ ছড়িয়ে পরে জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোরসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগণতান্ত্রিকভাবে পেশিশক্তি দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না এ আন্দোলন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
মুক্তিযুদ্ধের পর ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলেও মনে করেন এই ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ।



