ভিন্ন ধারা ও শৈলীর প্রতিথযশা কথাসাহিত্যিক ইচক দুয়েন্দে প্রয়াত হয়েছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সাহিত্য অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ১৬ মে রাতে জন্মভূমি রাজশাহীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সাহিত্যিক। এর আগে ওইদিনই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনিজনিতজটিলতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া ইচক দুয়েন্দের জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে রাজধানী ঢাকায়। আশি ও নব্বই দশকের সাহিত্য সমাজে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। তাকে কেন্দ্র করেই সমবেত হয়েছিল সেই প্রজন্মের সৃষ্টিশীল কবি-লেখকদের বড় একটি অংশ। নতুন জীবনদৃষ্টি নিয়ে নতুন ধারার সাহিত্য রচনা, প্রকাশনা ও গবেষণায় মেতে উঠেছিলেন তারা।
ইচক দুয়েন্দের উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে আধুনিক রূপকথা বলে খ্যাত জাদুবাস্তবতাময়, রূপকধর্মী উপন্যাস ‘টিয়াদুর’ এবং কারাগার, ব্যক্তি ও আধুনিক সমাজব্যবস্থার জটিল আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে রচিত উপন্যাস‘লালঘর’। তার শিশু-কিশোর সাহিত্যের বই ‘তিনটি খরগোস ও একটি দুষ্ট পিঁপড়ে’। আছে ভ্রমণবিষয়ক বই-‘কলকাতা ভ্রমন্তিকা’। ইংরেজি ভাষায় লিখেছেন উপন্যাস ‘উই আর নট লাভারস’। এছাড়া নিজের সৃষ্টিকর্মের বড় একটি অংশ, ৭টি ছোটগল্প একসাথে করে প্রকাশ করেছেন ‘কচিসমগ্র’। এর বাইরে নিরীক্ষাধর্মী বেশকিছু কবিতাও লিখেছেন ইচক দুয়েন্দে।
ভাষা নিয়ে নিরীক্ষা, গভীর মনস্তত্ত্ব, জাদুবাস্তবতা,রূপক, রূপকথার মিশেলে আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজকে চিত্রিত করে গেছেন এই লেখক। পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতা ও ক্ষয়িষ্ণু অস্তিত্বের লড়াই তার সাহিত্যকর্মের অন্যতম উপজীব্য। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে বরাবরই সাহিত্যিক ও বোদ্ধা মহলে সমাদৃত তিনি।
ইচক দুয়েন্দের সাহিত্যে ভাষা নিয়ে যে নিরীক্ষা ও শৈলীর প্রকাশ, আর এসবের মধ্য দিয়ে তিনি যে আধুনিক রূপকথার জন্ম দিয়েছেন, তা মৌলিকতাময় বলে অভিমত অনেকসাহিত্য সমালোচকের। সে কারণে কেবল বিগত সময় নয়, আগামী দিনের সাহিত্যেও ইচক দুয়েন্দের প্রভাব ও অনুপ্রেরণা বিস্তৃত হবে বলে মনে করেন তারা।



