অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লেখক ও শিক্ষক তানিয়া কামরুন নাহার, লেখক ও গবেষক আসলাম আহসান, এবং প্রাবন্ধিক ও গবেষক রাজীব সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
আলোচনা পর্বের শুরুতে খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান দ্রোহ, প্রেম, এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের উজ্জ্বল পরিচিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি যেমন বহু জাতির, বহু ভাষার, বহু সংস্কৃতির সংমিশ্রণে গঠিত, ঠিক তেমনই নজরুলের কবিতা, গান, ও লেখায় সেই বহুত্ব ও বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে। বর্তমান বিশ্বে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে মানুষে-মানুষে যে বিদ্বেষ ও বিভেদ বিদ্যমান তার প্রেক্ষিতে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা অনস্বীকার্য।
প্রবন্ধ উপস্থাপন পর্বে ড. কুদরত-ই-হুদা ‘নজরুল ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি তুলে ধরেছেন নজরুলের জন্ম, তাঁর সাথে বাঙালির সম্পর্ক বুর্জোয়া শ্রেণি বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে আবদ্ধ নয়, বরং জলে-জঙ্গলে, দারিদ্র্যে নিষ্পেষিত কৃষক, জেলে, তাঁতি, কুমারসহ নিম্নভূমির নিম্নজাতির মানুষের। নজরুল চেতনায় রয়েছে যেমন দরিদ্র সম্প্রদায়ের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র, ঠিক তেমনই রয়েছে আধিপত্যবাদ-বিরোধিতা, কর্মঠ ও প্রফুল্লচিত্ত মানুষের নিজকে আত্নবিশ্বাসের সাথে গ্রহণের দম্ভ। ড. কুদরত-ই-হুদা আরও বলেন, ৬০-এর দশকে পূর্ববাংলার মানুষের মাঝে যে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদ জেগে উঠেছে, তা নজরুলের চেতনায় উজ্জীবিত। কিন্তু বর্তমানে নজরুলকে বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত করে ধর্মীয়বাদে উদ্বুদ্ধ মানুষ নিজেদের বিশ্বাসকে চাপিয়ে দিতে ব্যবহার করেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধ শেষ করেন এই বলে, নজরুল কোনো বিশেষ জাতি বা গোষ্ঠীর কবি নন।



