গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।
মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।
অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”
শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—
“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”
কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”
তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—
“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”
এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।
এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি। তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, এমনকি বাংলাভিশন ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।
আলাপের একপর্যায়ে কুয়াকাটাকে উপজেলায় উন্নীত করার দাবিও জানাই। মনোযোগ দিয়ে শুনলেন, কিছু পরামর্শ দিলেন এবং আমার এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাসও দিলেন আন্তরিকভাবে।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার আমার অত্যন্ত পছন্দের এই রাজনীতিকের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অদ্ভুতভাবে আনন্দের পাশাপাশি এক ধরনের বিষাদও আমাকে গ্রাস করেছিল। রাজনীতির এই পরিচিত মুখটি কি সত্যিই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন? না, তিনি কি কোনো শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন ? নাকি মন্ত্রণালয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন?



